বাংলাদেশে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন: আপনার যা জানা প্রয়োজন
বাংলাদেশে ভূমি বা স্থাবর সম্পত্তি কেনা-বেচা, দান বা হেবা করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এই প্রক্রিয়াগুলো মূলত ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন (Transfer of Property Act, 1882) দ্বারা পরিচালিত। সাধারণ মানুষের জন্য এই আইনের জটিল বিষয়গুলো সহজভাবে বোঝা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আইনি জটিলতায় পড়তে না হয়।
আজকের আর্টিকেলে আমরা বাংলাদেশে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন উপায় এবং এর আইনি প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করব।
সম্পত্তি হস্তান্তর কী?
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন অনুযায়ী, ‘হস্তান্তর’ বলতে এমন একটি কাজকে বোঝায় যার মাধ্যমে একজন জীবিত ব্যক্তি বর্তমানে বা ভবিষ্যতে এক বা একাধিক জীবিত ব্যক্তিকে অথবা নিজেকে এবং অন্য এক বা একাধিক ব্যক্তিকে সম্পত্তি প্রদান করেন।
সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন মাধ্যম
বাংলাদেশে সাধারণত নিচের পদ্ধতিগুলোতে সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়:
১. বিক্রয় (Sale)
মূল্যের বিনিময়ে মালিকানা হস্তান্তর। এক্ষেত্রে অবশ্যই সাফ-কবলা দলিল সম্পাদন এবং রেজিস্ট্রেশন করতে হয়।
২. দান বা হেবা (Gift)
কোনো বিনিময় মূল্য ছাড়াই স্বেচ্ছায় সম্পত্তি হস্তান্তর। মুসলিম আইনে এটিকে ‘হেবা’ বলা হয়। রক্তের সম্পর্কের মধ্যে হেবা দলিলের খরচ অনেক কম।
৩. বন্ধক (Mortgage)
ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে সম্পত্তি হস্তান্তর।
৪. ইজারা (Lease)
নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট ভাড়ার বিনিময়ে সম্পত্তির দখল হস্তান্তর।
৫. বিনিময় (Exchange)
এক সম্পত্তির বিপরীতে অন্য সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন।
সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলি
রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক
২০০৪ সালের সংশোধনী অনুযায়ী, বাংলাদেশে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের যেকোনো চুক্তি বা দলিল লিখিত এবং নিবন্ধিত (Registered) হওয়া বাধ্যতামূলক। মৌখিক কোনো চুক্তির আইনি ভিত্তি নেই।
হস্তান্তরকারীর যোগ্যতা
সম্পত্তি হস্তান্তরকারী ব্যক্তিকে অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিস্কের এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বৈধ মালিক হতে হবে।
বায়না চুক্তি
বড় কোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে বায়না চুক্তি করা ভালো। আইন অনুযায়ী বায়না চুক্তির মেয়াদ থাকে ৩০ দিন (যদি দলিলে সময় উল্লেখ না থাকে)। এটিও রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক।
নামজারি বা মিউটেশন (Mutation)
সম্পত্তি কেনার পর বা হস্তান্তরের দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ‘নামজারি’ করা। এসিল্যান্ড (AC Land) অফিস থেকে আগের মালিকের নাম কেটে বর্তমান মালিকের নাম সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করাই হলো নামজারি। এটি না করলে খাজনা দেওয়া যায় না এবং মালিকানা পূর্ণতা পায় না।
আইনি পরামর্শের গুরুত্ব
সম্পত্তি ক্রয়ের আগে দলিলের চেইন বা পিট দলিল যাচাই করা, খতিয়ান চেক করা এবং সম্পত্তিটি কোনো দায়বদ্ধ বা ব্যাংক মর্টগেজ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সামান্য অবহেলায় আপনার কষ্টার্জিত অর্থ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বাংলাদেশে সম্পত্তি সংক্রান্ত যেকোনো আইনি জটিলতা বা সঠিক পরামর্শের জন্য M. Elahi & Associates আপনার পাশে রয়েছে। আমাদের অভিজ্ঞ আইনজীবী দল জমি জমা সংক্রান্ত দলিল যাচাই, রেজিস্ট্রেশন এবং লিটিগেশন বিষয়ে আপনাকে দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ততার সাথে সেবা প্রদান করে আসছে।
আপনার সম্পত্তি কি সুরক্ষিত? আইনি পরামর্শ পেতে আজই যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
ওয়েবসাইট: elahilegal.com
যোগাযোগ: +880-17175-54759
ঠিকানা: ইস্টার্ন আরজু, স্যুট নং ১ (১১ তলা), ৬১ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০।



